তাজিংডং-বিজয় পর্বতশৃঙ্গ ভ্রমণ || বান্দরবন

পরিচিতিঃ

তাজিংডং (Tazing Dong) পর্বতটি বান্দরবনের রুমা উপজেলা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটি রুমা উপজেলার রেমাক্রী পাংশা ইউনিয়নে অবস্থিত। একে বিজয় পর্বতশৃঙ্গ ও বলা হয়। সরকারিভাবে তাজিংডংই বাংলাদেশের সব্বোর্চ পর্বৃতশৃঙ্গ। তাজিংডং (Tazing Dong) বা বিজয় পর্বতশৃঙ্গটি রুমা উপজেলায় অবস্থিত হলেও রুমা থেকে যেতে পারবেন না। কারণ রুমা থেকে আপনি কেওক্রাডং এবং সব্বোর্চ জাদিপাই যেতে পারবেন। বিজয় যেতে চাইলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই থানচি হয়ে সেখান থেকেই আপনাকে যেতে হবে।

যতদূর চোখ যায় আপনি দেখতে পাবেন,মেঘে ঘেরা পাহাড় ও পাহাড় আর পাহাড়ের অপরূপ মিলনমেলা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৩০০ ফুট উচুঁতে সৃষ্টি এই তাজিংডং সত্যিই আল্লাহতা’আলার এক অপূর্ব, অসাধারণ এবং বিস্ময়কর একটি সৃষ্টি। শেরকরপাড়া থেকে বিজয়ের চূড়ায় উঠার জন্যে আপনাকে নির্দিষ্ট একটি সময় পাহাড় বেয়ে উপরে উঠতে হবে। যতই কাছাকাছি এসে পড়বেন, ততই শিহোরিত হবেন। ট্রেকিং করার এক পর্যায়ে আপনি পৌঁছে যাবেন, আপনার গন্তব্য তাজিংডংয়ের চূড়ায়। আশপাশে ছোট বড় পাহাড় এবং পাহাড় আর চারিপাশের মেঘের ভরপুর আনাগোনা।

মনে পড়ে যাবে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতাটিঃ

অনেকদিন থেকেই আমার একটি পাহাড় কেনার শখ, কিন্তু পাহাড় কে বিক্রি করে তা জানি না;

যদি তার দেখা পেতাম, দামের জন্যে তা আটকে থাকতো না।

কিভাবে যাবেনঃ

সর্বপ্রথমেই আপনাকে বান্দরবন যেতে হবে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে এস.আলম, সৌদিয়া, সেন্টমার্টিন, ইউনিক, হানিফ, শ্যামলী পরিবহনে করেই আপনি বান্দরবন যেতে পারেন। এসি এবং ননএসি বাসের ক্ষেত্রে আলাদা ভাড়া হবে। সেক্ষেত্রে ভাড়া হতে পারে ৬০০-১৫০০ টাকার মতো। আপনি চাইলে চট্রগ্রাম থেকে ও বান্দরবন যেতে পারেন। চট্রগ্রামের দামপাড়া স্ট্রান্ড বা বিআরটিসি টার্মিনাল থেকে বান্দবনের বাস আছে। ভাড়া পড়বে ১০০-১৫০ টাকার মতো। আপনি চাইলে ট্রেনে করে ও যেতে পারেন। তাহলে, প্রথমে আপনাকে চট্রগ্রাম আসতে হবে। এছাড়া এখান থেকে প্রাইভেট কারে করে ও আপনি বান্দরবন যেতে পারবেন। ভাড়া পড়তে পারে ৩০০০-৪০০০ টাকার মতো।

বাসে বা চান্দের গাড়িতে যেকোন একটি মাধ্যমেই আপনি থানচি যেতে পারবেন। বান্দরবন বাসস্ট্যান্ড থেকে থানচি পর্যন্ত বাস যায়। এছাড়া আপনি যদি গ্রুপ কিংবা বন্ধুবান্ধবের সার্কেল নিয়ে ভ্রমণে বের হন, তবে আপনি চান্দের গাড়িতে করেই থানচি যেতে পারবেন৷ প্রায় ৩- ৩.৫ ঘন্টার মতো সময় লাগবে। সহজেই ১০-১৫ জন একসাথে যেতে পারবেন। পথে দেখতো পাবেন মিলনছড়ি, চিম্বুক, নীলগিরি। থানচি পৌঁছানোর পরে সেখান থেকে গাইড ভাড়া করে আপনাকে হেঁটে যেতে হবে শেরকরপাড়া। আপনি শেরকরপাড়ায় পাহাড়িদের তৈরি বাঁশের ঘরে থাকতে পারবেন। সেখানে রাত্রি অবস্থান করে পরের দিন রওনা দিলে আপনি পৌঁছে যাবেন তাজিংডং বা বিজয় পর্বতশৃঙ্গের চূড়ায়।

রূটঃ বান্দরবন || থানচি || হেডম্যানপাড়া || শেরকরপাড়া || বিজয় বা তাজিংডং পর্বতশৃঙ্গ

যা যা নিবেনঃ

১. কাঁধে বহন করার জন্যে ব্যাগপ্যাক।

২. মোটামুটি ৩-৪ দিনের জন্যে হালকা কাপড়।

৩. স্যানগ্লাস, ক্যাপ, টুথপেস্ট এবং ব্রাশ। ছবি তুলতে চাইলে সাথে অবশ্যই ক্যামেরা রাখবেন।

৪. মোবাইল, ক্যামেরা এবং আপনার ব্যাগপ্যাক বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে সাথে পলিথিন রাখুন।

৫. চিপস, খেঁজুর, বিস্কুট, কলা, ড্রাই কেক জাতীয় হালকা খাবার সাথে রাখুন।

৬. ট্রেকিং করার উপযোগী জুতা বা গ্রিপওয়ালা স্যান্ডেল কিনে নিতে পারেন। থানচি বাজার থেকেই নিতে পারবেন।

৭. সাথে অবশ্যই খাবার পানির বোতল রাখবেন।

৮. জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্টের ফটোকপি অবশ্যই সাথে রাখতে হবে।

৯. মোবাইল চার্জ করার জন্যে পাওয়ার ব্যাঙ্ক অবশ্যই সাথে রাখবেন।

ভ্রমণ সতর্কতাঃ

১. প্রশাসনের অনুমোদন এবং অনুমোদিত গাইড নিয়েই আপনাকে যেতে হবে।

২. যেকোনো পরিস্থিতিতেই আপনাকে মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে।

৩. রাতে ভ্রমণ করার থেকে বিরত থাকবেন। সেক্ষেত্রে আহত হবার সম্ভাবনা থাকে।

৪. অনুমতি ছাড়া কোন পাহাড়িদের ছবি তোলা যাবে না।

৫. পাহাড়িদের ধর্মকে সম্মান করুন ও তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।

৬. দীর্ঘ একটি সময় আপনাকে ট্রেকিং করতে হবে। গ্লুকোজ, স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ট্যাবলেট সাথেই রাখুন।

যান্ত্রিক শহরের কোলাহল থেকে সুন্দর একটি মুহুর্ত্ব পার করার জন্যেই আমরা বের হই ভ্রমণে। এই প্রাকৃতিক পরিবেশ আপনার, এই প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাদের সবার। তাই ভ্রমণের সময়টুকুতে আপনার আশপাশ অপরিষ্কার করবেন না। চিপস, বোতল এবং আপনার অন্যান্য ব্যবহৃত ফেলা দেওয়া জিনিসপত্রগুলো যেখানে সেখানে না ফেলে একটি নিদিষ্ট স্থানেই ফেলুন। পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায় এগিয়ে আসুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

মুপ্পোছড়া ঝর্ণা ভ্রমণ || রাঙামাটি

Mon Mar 29 , 2021
পরিচিতিঃ মুপ্পোছড়া ঝর্ণাটি পার্বত্য চট্রগ্রাম অন্তর্গত রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলার বাঙ্গালকাটা নামক স্থানটিতে অবস্থিত। অপূর্ব এবং অসাধারণ এই ঝর্ণাটি প্রস্থের দিক দিয়ে অন্যতম একটি বড় ঝর্ণা। অপরূপ সুন্দর এই ঝর্ণাটিতে পৌঁছানোর জন্যে প্রায় আড়াই থেকে তিনঘন্টা পথ আপনাকে ট্রেকিং করতে হবে। মনোরম পরিবেশে পাহাড়ের আকাবাকা, উঁচু-নিচু রাস্তা বেয়ে যেতে হয় […]