ধুপপানি ঝর্ণা ভ্রমণ || রাঙামাটি

পরিচিতিঃ

ধুপপানি ঝর্ণাটি (Dhuppani Watefall) রাঙামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলা অন্তর্গত ফারুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত। সমতল থেকে প্রায় ১৫০ মিটার উঁচু এই ঝর্ণাটির পানি আছড়ে পড়ার শব্দ প্রায় ২ কিলোমিটার দূর থেকে শোনা যায়। বর্ষাকালে ঝর্ণাটির সৌন্দর্য এবং সজীবতা আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। এই ঝর্ণাটি বাংলাদেশের উঁচু স্থান থেকে পতিত হওয়া ঝর্ণাগুলোর মধ্যে একটি। স্থানীয় ভাষায় ধুপ শব্দটির অর্থ সাদা, যার কারণে একে সাদা পানির ঝর্ণাও বলা হয়। এখানে বিভিন্ন ধরণের বন্য প্রাণীর বিচরণ রয়েছে। ঝর্ণাটিতে পৌঁছানোর জন্যে বেশ খানিকটা পথ আপনাকে হাটতে হবে। পাড়ি দিতে হবে দুর্গম এবং খাড়া পাহাড়ি পথ।

দীর্ঘদিন পর্যন্তই এই ঝর্ণার অস্তিত্ব সম্পর্কে কেউ জানতো না। এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী তার ধ্যানের জন্য ধুপপানি ঝর্ণার এলাকাটিকে বেছে নিয়েছিলেন। তিনি ঝর্ণার নিচে বসেই ধ্যান করতেন। পরবর্তীতে স্থানীয় আদিবাসীরা তার সম্পর্কে জানতে পারলে তার জন্যে খাবার-দাবার, সেবা-সাহায্যের জন্যে সেখানে গেলে তারা ওই স্থানে ধুপপানি ঝর্ণাটির সন্ধান পান। বর্তমানে টুরিস্টদের পছন্দের একটি স্পট হওয়ার কারণে এবং এখানে ভ্রমণ যাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি হবার কারণে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীটি ঝর্ণার উপরে ধ্যান করেন। ঝর্ণাটিতে অবস্থান করার সময়ে বেশি উত্তেজিত এবং শোরগোল না করাই উচিত।

কিভাবে যাবেনঃ

প্রায় বেশ কয়েকটি বাসই ঢাকা থেকে রাঙামাটি যায়৷ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকেই আপনি সরাসরি রাঙামাটির গাড়ির টিকিট কেটে নিতে পারেন। এসি বাসের ভাড়া পড়ে ৯০০ টাকার মতো এবং নন এসি ৭০০ টাকার মতো৷ চট্রগ্রাম থেকে যেতে চাইলে আপনি অক্সিজেন মোড় হতেই রাঙামাটির লোকাল এবং গেইটলক সার্ভিস গাড়ি পাবেন। ভাড়া একটু বেশি হলে ও গেইটলক সার্ভিস গাড়িতে আপনি তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পারবেন। ভাড়া পড়বে ১৫০ টাকা।

কাপ্তাই লঞ্চঘাট থেকে ট্রলার ভাড়া করে চলে যাবেন বিলাইছড়ি উপজেলায়। এখান থেকে কোষা নৌকা ভাড়া করে পার হতে হবে পাহাড়ি ঢালের পানি। তারপর আপনাকে হাঁটা শুরু করতে হবে ধুপপানি পাড়ায় পৌঁছানোর জন্যে। প্রায় আড়াই ঘন্টার মতো লাগবে পৌঁছাতে। ধুপপানি ঝর্ণাটিতে (Dhuppani Watefall) যাওয়ার সময় ধুপপানি পাড়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। সেখানে আদিবাসীদের দোকান দেখতে পাবেন। সেখানে আপনি হালকা খেতে পারেন। পরবর্তীতে ধুপপানি পাড়া থেকে ঝর্ণার (Dhuppani Watefall) কাছে যেতে মিনিট ৩০ এর মতো সময় লাগবো। পাড়া থেকে প্রায় ২০০ মিটার নিচে ঝর্ণাটি অবস্থিত। ঝর্ণার অপূর্ব দৃশ্য এবং বেয়ে পড়া পানির ঝিরঝির শব্দে আপনি হয়ত ভাষাই হারিয়ে ফেলবেন।

কোথায় থাকবেনঃ

রাঙামাটিতেই বিভিন্ন ক্যাটাগরির হোটেল রয়েছে। শহরের পুরান বাসস্ট্যান্ড এবং রিজার্ভ বাজার এলাকার হোটেল গুলোতে উঠলে আপনি কাপ্তাই লেকের পরিবেশটিকে উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া বিলাইছড়ি উপজেলাতে ও থাকতে পারেন। ধুপপানি ঝর্ণায় (Dhuppani Watefall) যেতে এবং আসতে আপনাকে অনেকটুকু সময়ই পার করতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি বিলাইছড়িতেই থাকতে পারেন। থাকার জন্যে এখানে আছে ছোট ছোট কটেজ এবং স্খানীয়দের ঘর। খাওয়ার জন্যে আছে হোটেল। তিনবেলায়ই আপনি হোটেলে খেতে পারবেন। ধুপপানির পাশাপাশি আছে মুপ্পোছড়া, ন-, গাছকাটা ঝর্ণা। আপনি চাইলে এ ঝর্ণাগুলোতে ও যেতে পারেন।

বিশেষ সতর্কতাঃ

১. দীর্ঘ একটি সময় ট্রেকিং প্রস্তুতি রাখুন। হাঁটার জন্যে ভালো গ্রিপের জুতা ব্যবহার করুন।

২. বিলাইছড়ি থেকে ধুপপানি (Dhuppani Watefall) রওনা দেবার পথে সাথে কিছু শুকনো খাবার নিয়ে নিন।

৩. ব্যবহারেই বংশের পরিচয়। সেখানকার স্থানীয় মানুষদের সাথে ভদ্র ব্যবহার করুন।

৪. ঝর্ণার স্থানটি চিৎকার-চেঁচামেচি এবং হৈ-হুল্লোর করা থেকে বিরত থাকুন।

৫. সারাবছরই পাহাড়ে বৃষ্টি হওয়ার কারণে রাস্তাগুলো ভেজা এবং পিচ্ছিল থাকে। তাই সতর্কতা অবলম্বন করেই যাতায়ত করুন।

৬. পরিবেশের ক্ষতি করবেন না। যেখানে সেখানে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্খানেই আপনার ময়লাগুলো ফেলুন।

৭. বৃষ্টির হাত থেকে নিরাপদে থাকতে যথেষ্ট পরিমাণে পলিথিন ব্যবহার করুন।

জেনে রাখা ভালোঃ

এই বিলাছড়ি উপজেলাটি পার্বত্য অঞ্চলের অংশ হওয়ার কারণে আপনাকে সাথে করে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি অথবা জন্মনিবন্ধন ফটোকপি বা আইডি কার্ডের ফটোকপি সাথে রাখতে হবে। সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে এসব প্রদর্শন করতে না পারলে আপনি ভ্রমণ এলাকায় প্রবেশের অনুমতি পাবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

গাছকাটা ঝর্ণা ভ্রমণ || রাঙামাটি

Thu Apr 1 , 2021
পরিচিতিঃ গাছকাটা ঝর্ণাটি (Gaskata Waterfall) বিলাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত একটি ঝর্ণা। ঝর্ণা প্রকৃতির এক অপরূপ সৃষ্টি। বিশাল উঁচু পাহাড় থেকে বেয়ে বেয়ে পড়া পানির চমৎকার ফোয়ারা মুগ্ধ করে মন, মোহে পড়ে যায় এর সৌন্দর্যে। মানুষ স্বভাবগতই প্রাণ থেকে উপভোগ করে ঝর্ণাকে। ঠিক তেমনি মন কেড়ে নেওয়া চমংকার একটি ঝর্ণা হলো গাটকাটা। […]