বিছানাকান্দি ভ্রমণ || সিলেট

পরিচিতিঃ

এর আশেপাশে মেঘালয়ের উঁচু উঁচু পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণাধারার পানি পাথরের সাথে মিলিত হয়ে তৈরি করে এক মুগ্ধকর পরিবেশ। সৌন্দর্যের রাণী সিলেটে বিছানাকান্দি এক অপূর্ব সৃষ্টি। চারিপাশের ছোট বড় পাহড়ের সমারোহ। এই পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা স্বচ্ছ পানি ধারা অতিরিক্ত মাত্রায় বৃদ্ধি করেছে এর সৌন্দর্যকে। দিন দিন এই স্পটটিতে পর্যটকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ওপারে ভারতের অংশে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি উঁচু-নিচু পাহাড়, যা দেখতে সত্যিই অসাধারণ। অপরূপ মায়ায় ঘেরা পাথর, পানি, উঁচুনিচু পাহাড় এবং পাহাড়ের গা থেকে বেয়ে পড়া ঝর্ণার পানির সমন্বয়েই যেন সৃষ্টি হয়েছে স্থানটি।

ট্যুরে গেলে প্রথমেই আমরা যে বিষয়টি চিন্তা করে থাকি তা হলো প্রশান্তি৷ দূরপথের ক্লান্তি আর অবসাদকে ভুলিয়ে দিতে প্রকৃতিই যথেষ্ট মনের মাঝে প্রশান্তির ছোঁয়া মেলে দিতে। প্রকৃতির সৌন্দর্যের কাছে হার মানবে যেকোন কিছুই। যদি তা উপলব্ধি করতে চান, তবে চলে আসুন বিছানাকান্দি। শীতল ঝর্ণা পানির তলদেশে ছোট বড় পাথরের পাশাপাশি নিজের শরীরের উপস্থিতি ও লক্ষ করতে পারবেন। দীর্ঘ একটি সময় এখানে অবস্থান করতে পারেন। উপভোগ করতে পারেন সুবজ পাহাড়ের মাঝে ভেসে যাওয়া মেঘের দল। যেখানেই তাকাবেন দেখবেন পাথর এবং পাহাড়ের সমারোহ।

কখন যাবেনঃ

বর্ষাকালে বিছানাকান্দির সৌন্দর্য বহুগুণেই বেড়ে যায় যদি ও বছরের যেকোন সময়ই এখানে ভ্রমণ করতে যেতে পারেন। তবে বর্ষাকালই বিছানাকান্দি ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। এসময় পানি প্রবাহের মাত্রা বেড়ে গেলে বিছানাকান্দির সৌন্দর্য বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। তবে, শীতকাল মোটেই এখানে ভ্রমণের সময় নয় কারণ এই সময়ে পাথর উত্তোলন করা হয় যার কারণে তখন ভ্রমণ করতে গেলে সামরিক অসুবিধার তৈরি হয়।

কিভাবে বিছানাকান্দি যাবেনঃ

সর্বপ্রথম আপনাকে সিলেট যেতে হবে। সেখান থেকে তারপর আপনাকে যেতে হবে বিছানাকান্দির উদ্দেশ্যে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানথেকেই এসি কিংবা ননএসি বাসে যেতে পারেন সিলেট৷ নন এসি বাসে পড়বে ৪৫০-৬০০ টাকা এবং এসি বাসে পড়বে ১০০০-১২০০ টাকা। এছাড়া ট্রেনে করে যাওয়া যেতে পারে সিলেট। কমলাপুর এবং বিমানবন্দর রেলস্টেশন হতে ট্রেন যায় সিলেটে। সেক্ষেত্রে চাইলে ট্রেনকেই আপনার ভ্রমণসঙ্গী হিসাবে বেছে নিতে পারেন। আর চাইলে আপনি খুব কম সময়েরই মধ্যেই প্লেনে করে যেতে পারেন সিলেট।

সিলেট টু বিছানাকান্দিঃ

সিলেট থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বিছানাকান্দি অবস্থিত। শহরের আম্বরখানা নামক স্থান থেকে সিএনজি ভাড়া করে যেতে হবে হাদারপাড় নামক স্থানে। ৪-৫ জন একত্রে গেলে সিএনজি রিজার্ভ করে নিতে পারেন অথবা জনপ্রতি লোকাল সিএনজিতে করে ও যেতে পারেন। চাইলে লেগুনা এবং মাইক্রোবাস ও রিজার্ভ নিতে পারেন। তবে, অবশ্যই আগে ভাড়া ঠিক করে নিবেন।

হাদারপাড়ের নৌকা ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করে যেতে হবে বিছানাকান্দি। প্রায় ঘন্টাখানেকের কম সময়ের মধ্যেই পিয়াইন নদীর অতিক্রম করে পৌঁছে যাবেন নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থানে। এখানে নৌকা ভাড়া করার সময় এক নৌকায়ই পান্তুমাই, বিছানাকান্দি এবং লক্ষনছড়া ঘুরে দেখতে পারবেন। এক্ষেত্রে আগে মাঝির সাথে কথা বলে নিবেন। তবে বর্ষার আগে এবং শীতকালে পানি কম থাকার কারণে হাদারপাড় বিছানাকান্দি পায়ে হেঁটে কিংবা বাইকে চড়েই যেতে পারবেন।

বিছানাকান্দি থেকে নৌকা ভাড়াঃ

হাদারপাড় থেকে স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং টুরিস্ট পুলিশ কর্তৃক নির্ধারিত করা রিজার্ভ নৌকা ভাড়ার পরিমাণ প্রায় ১৫৫০ টাকা৷ প্রতি নৌকায় ১০-১২ জন যাওয়া যায়। নৌকায় চড়ে বিছানাকান্দি পৌঁছাতে সময় লাগবে প্রায় ৪০-৫০ মিনিটের মতো। সিজন মৌসুম এবং পর্যটকের উপস্থিতির হার বেশি থাকলে ভাড়ার পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

কোথায় থাকবেনঃ

সিলেট থেকে বিছানাকান্দি দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসার সুবিধার কারণে থাকার জন্যে সিলেটেই ফিরে আসতে পারেন। সিলেট থেকে পরবর্তীতে আপনি অন্য স্পটগুলোতে ও ঘুরতে পারেন। এখানে থাকার জন্যে রয়েছে অসংখ্য হোটেল। তবে লালা বাজার এবং দরগাহ গেইট এলাকায় রয়েছে কম খরচের মধ্যে অসংখ্য হোটেল। চাইলে সেখানে ও থাকতে পারেন। হোটেলে ভেদে ভাড়া ভিন্ন ভিন্ন। খুব উন্নতমানের আবাসিক হোটেল এবং ল্যাক্সারী হোটেল ও এখানে আছে। ক্ষেত্র এবং সুবিধা হিসেবে এসব হোটেলগুলোতে প্রতি রাতের জন্যে খরচ পড়বে ভিন্ন। তবে সিজনের সময় এবং পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে রুম ভাড়ার তারতম্য ঘটে।

কোথায় খাবেনঃ

বিছানাকান্দিতে স্থায়ীভাবে খাবার কোন হোটেল নেই তবে আছে দুটি ভাসমান রেস্টুরেন্ট৷ চাইলে এখান থেকে দুপুরের খাবার সেরে ফেলতে পারেন। চাইলে সিলেট থেকেই পানি এবং কিছু শুকনো খাবার সাথে নিতে পারেন। এছাড়া হাদারপাড় বাজারে ও কিছু খাবারের দোকান আছে। এছাড়া সিলেটে ও খাবারের জন্যে বিখ্যাত কিছু হোটেল, রেস্টুরেন্ট আছে। এখানকার খাওয়ার হোটেল থেকে ভালো মানের খাবার খেতে পারবেন। জিন্দাবাজার এলাকায় সুলভ মূল্য আপনার পছন্দমতো দেশী খাবার খেতে পারেন।

ভ্রমণ সতর্কতাঃ

১. বিছানাকান্দি থেকেই সন্ধ্যার পূর্বেই সিলেট শহরে ফিরে আসুন।

২. স্থানীয়দের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।

৩. সাঁতার না জানলে পানিতে নামবেন না।

৪. বর্ষকালে পানি প্রবাহের মাত্রা অধিক বেড়ে যায়৷সেক্ষেত্রে সাতাঁর জানা থাকলে ও পানিতে না নামাই উত্তম।

৫. শীতকালে পাথর উত্তোলনের কারণে কিছু কিছু জায়গায় খাঁদ আছে। তাই কোথাও নামার আগে সতর্ক হয়ে নিন।

৬. বিছানাকান্দির পানির নিচে পাথর থাকে। সুতরাং হাঁটার সময় সাবধান থাকুন। পিছলে পাথরের কারণে দুর্ঘটনা ও ঘটতে পারে।

৭. খরচের পরিমাণ এরিয়ে চলতে গেলে গ্রুপ কিংবা দলবদ্ধভাবে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

৮. সিএনজি কিংবা নৌকা ভাড়া করার সময় দামাদামি করে নিন।

৯. ইচ্ছে থাকলে একদিনেই রাতারগুল এবং বিছানাকান্দি ভ্রমণ করতে পারেন। ১

০. আপনার চারিপাশের অসাধারণ এবং মুগ্ধকর পরিবেশ এবং প্রকৃতির ক্ষতি হয়, এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

আলুটিলা রহস্যময় গুহা - খাগড়াছড়ি

Wed May 5 , 2021
পরিচিতিঃ আলুটিলা গুহাটি খাগড়াছড়ি জেলা অন্তর্গত মাটিরাঙ্গা উপজেলায় একটি পর্বতে অবস্থিত ৷ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার ফুঁট উঁচুতে অবস্থিত এই পর্বতটি এই জেলার সবচাইতে উঁচু পর্বত। এখানে দাঁড়িয়েই দেখতে পারবেন পুরো খাগড়াছড়ি শহরটি। এই আলুটিলা পর্বতটি খাগড়াছড়ি জেলার একটি নামকরা পর্যটন কেন্দ্র ও। আর এই পাহাড়েই অবস্থিত রহস্যময় আলুটিলা […]