রাতারগুল ভ্রমণ – সিলেট

পরিচিতিঃ

রাতারগুল ফরেস্ট সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার গুয়াইন নদীর দক্ষিণে অবস্থিত। প্রায় ৩০০০০ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই বনটি জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিশাল এই বনটির ৫০০ একর জায়গা জুড়ে রয়েছে বন এবং আশেপাশের জায়গা গুলি জলাশয়ে পরিপূর্ণ থাকে। সিলেটের সুন্দরবন নামে পরিচিত বনটি বর্ষাকালে পানির নিচে ডুবে থাকে। তবে, সারাবছর এখানে পানির উচ্চতা ১০ ফুটের মতো থাকলে ও বর্ষাকালে পানির উচ্চতা বেড়ে যায় ২০-৩০ ফুট।

এই বনটিকে বাংলাদেশ সরকারের বনবিভাগ কর্তৃপক্ষ দেখাশোনা করে। এটি মূলত প্রাকৃতিক বন হলে ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ বনবিভাগ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ এখানে লাগিয়েছে। যার কারণে বনের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গায়ই উদ্ভিদে আচ্ছাদিত। প্রাণীবৈচিত্র্য সম্বলিত এই বনটিতে রয়েছে বিভিন্ন প্রাণী, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং বিভিন্ন মাছের জাত। তবে, শীতকালে প্রচুর পরিযায়ী পাখিও এখানে আসে।

সুউচ্চ বিশাল ওয়াচ টাওয়ার থেকে উপভোগ করতে পারবেন চারিপাশের ভিউ। এছাড়া ও রাতারগুলে রয়েছে কায়াকিং করার সু্ব্যবস্থা যেটি আপনি নৌকা নিয়ে করতে পারবেন না। কায়াকিং এর মাধ্যমে জঙ্গলের বিভিন্ন স্থানে যেতে পারবেন, যেখানে ইচ্ছে হয় থামতে পারবেন। এখানে একটি ভাসমান চায়ের দোকান আছে। সেখান থেকে আপনি চা ও খেতে পারেন।

কখন যাবেনঃ

বর্ষাকাল রাতাগুল ভ্রমণের জন্যে উপযুক্ত সময়। জলের মাঝে ডুবে থাকা গাছগুলো এবং অরণ্যের চারিপাশের অসাধারণ প্রকৃতিকে কাছে থেকে দূর-দুরান্ত থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য পর্যটক। ডিঙি নৌকা ভাড়া করে বনের ভিতরে ঢুকে দেখতে হয় প্রকৃতির সৌন্দর্য। অবশ্য বন ভ্রমণের জন্যে রাতারগুল বনবিট অফিস থেকে আগে অনুমতি নিতে হবে।

কিভাবে যাবেনঃ

ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকেই সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সোহাগ, লন্ডন এক্সপ্রেস গাড়িগুলো সিলেটের উদ্দেশ্যে যায়। এসি এবং নন এসি ভেদে বাস ভাড়া অবশ্যই আলাদা। এছাড়া কমলপুর রেলস্টেশন থেকে পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন কিংবা জয়নন্তিকা এক্সপ্রেসে করে যেতে পারেন সিলেট। সিটভেদে ভাড়া পড়বে আলাদা আলাদা। তবে চাইলে প্লেনে করে ও যেতে পারেন সিলেট। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিনই বেশ কিছু বিমান সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে যায়৷ বিমানে খুব কম সময়েই যেতে পারবেন সিলেট। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ভাড়া বেশিই পড়বে।

সিলেট থেকে খাদিমনগন জাতীয় উদ্যানের ভিতর দিয়ে খুব কম সময়েই যেতে পারবেন রাতারগুল। সিএনজি অথবা জিপ ভাড়া করে যেতে হবে শ্রীঙ্গি ব্রিজ পর্যন্ত। সেখান থেকে জেলেদের নৌকা ভাড়া করতে হয় জঙ্গলে ঢুকার জন্যে। প্রতিটি নৌকায় ৪-৫ জন করে উঠতে পারেন। অবশ্যই নৌকা ঠিক করার আগে দরদাম করে নিবেন। শহর থেকে সকালে রাতারগুলের উদ্দেশ্যে রওনা দিলে বিকেলের আগেই ফিরে আসতে পারেন। তাই চাইলে আপনি সিএনজি রিজার্ভ ভাড়া করে নিতে পারেন তাহলে পাশাপাশি আপনি বিছানাকান্দি থেকে ও ঘুরে আসতে পারবেন। এছাড়াও আরো কয়েকটি পথে আপনি সিলেট শহর থেকে রাতারগুল যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেনঃ

থাকার জন্যে সিলেটে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের হোটেল৷ আপনার বাজেট অনুযায়ী আপনি বেছে নিতে পারেন আপনার থাকার হোটেল। তবে, লালা বাজার নামক এলাকাতে কম ভাড়াতে রয়েছে উন্নতমানের হোটেল। এছাড়া ভালো মানের অসংখ্য হোটেল আছে এখানে। এসব হোটেলগুলোতে মাথাপিছু প্রতি রাতের জন্যে খরচ পড়বে ৮ হাজার থেকে ৩০০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত ও৷ ছুটির সময় কিংবা সিজনে সময় এখানে আসতে চাইলে যাওয়ার আগেই হোটেল বুকিং দিয়ে রাখা ভালো।

সম্প্রতি পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু মন্ত্রনালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী রাতাগুল প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি ফি প্রদান করতে হবে হবে সরকারকে। সাথে যুক্ত হয়েছে নৌকা ভ্রমণ এবং পার্কিং ফি ও।

প্রবেশমূল্যঃ

১.প্রাপ্রবয়স্কদের জন্যে ৫০ টাকা।

২. শিক্ষার্থীদের জন্যে ২৫ টাকা।

৩. বিদেশী পর্যটককারীদের জন্যে ৫০০ টাকা।

এছাড়া ১২ বছরের কম যাদের, তাদের জন্য প্রবেশমূল্য ২৫ টাকা মাত্র।

পার্কিং ফিঃ

১. বাস বা ট্রাকের জন্যে পড়বে ২০০ টাকা।

২. মোটরসাইকের কিংবা সিএনজি এর জন্যে পড়বে ২৫ টাকা।

৩. জিপ,পিকআপ,মাইক্রোবাস অথবা কার এর জন্যে পড়বে ১০০ টাকা।

ইঞ্জিনবিহীন নৌকা ভাড়া করার ক্ষেত্রেঃ

১. প্রতিবার পড়বে ১০০ টাকা।

২. বিদেশী পর্যটকদের জন্যে পড়বে ১০০০ টাকা।

ভ্রমণ সতর্কতাঃ

১.সাথে গাইড নিয়ে যাওয়াই ভালো। নয়ত পথ হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা থাকে বটে।

২. বর্ষাকালে বন ডুবে যায়। তখন সাপ গাছের ডালে আশ্রয় নেয়। অতত্রব, সতর্কতা অবলম্বন করুন।

৩. যদি সাঁতার না জানেন, লাইফ জ্যাকেট সাথে রাখুন।

৪. সাথে গাইড নিয়ে যাওয়াই ভালো। নয়ত পথ হারিয়ে ফেলার সম্ভাবনা থাকে বটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Next Post

জাফলং ভ্রমণ - সিলেট

Sun Apr 25 , 2021
পরিচিতিঃ জাফলং সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত। পিয়াইন নদীর অববাহিকায় ভারতের মেঘালয় প্রদেশের খাসিয়া-জৈন্তা নামক পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রকৃতির কন্যা জাফলং। পিয়াইন নদীর অববাহিকায় ভারতের মেঘালয় প্রদেশের খাসিয়া-জৈন্তা নামক পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত প্রকৃতির কন্যা জাফলং। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ভ্রমণস্পটির নাম শুনেন নি, এমন হয়তো […]